অ নু বা দ ক বি তা য় ক বি সু দী প্ত চ ট্টো পা দ্যা য়


সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

চিকিৎসক, রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান, কবি, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, যুগ্ম সম্পাদক, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর ইন্টারকালচারাল স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ, নির্বাহী সম্পাদক, কৃষ্টি ও অন্বেষা এবং কালচার এন্ড কোয়েস্ট।

আফগানিস্তানের কবি পারতাও নাদেরি-র কবিতার অনুবাদে কবি-অনুবাদক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

কবি পারতাও নাদেরি-- আফগানিস্তান এর উত্তরে বাদাখশান প্রদেশে জন্ম ১৯৫৩ সালে। কাবুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক। কবিতা লেখার শুরুর সময়েই ১৯৭০ সালে  কুখ্যাত " পুল- ই চরকি" কারাগারে সোভিয়েত রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত সৈন্য দের দ্বারা তিন বছর কারাবন্দী থাকেন। আফগানিস্তানের কবিতার আধুনিক বিবর্তনের সময়ের অন্যতম প্রধান কবি তিনি। তাঁর কবিতায় গীতিময়তার সঙ্গে উঠে আসে রক্তমাংসের জীবন।প্রাচীনের সংবে রূঢ় বাস্তবের অপূর্ব মিশেল।এখন তিনি বসবাস করেন কাবুলে।

একটা গ্রামের কাছে আবেদন 

কাল একটা দীর্ঘ যুদ্ধ হবে অন্ধকারে, 

আচমকা ফুলের ঝুড়ির মধ্যে 

আর্তনাদ করে কেউ, 

যন্ত্রণা দুটো রাস্তা ধরে 

পথচারী আর পরীরা 

ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাবে, 

আমি জানি দূষিত হবার আগেই 

কিছু স্তন্যপায়ী প্রতিদিন 

জলের দাম কমিয়ে দেয়, 

আমি খন্ড খন্ড হতাশার 

ধারণা করি তৃণভোজীর মতো, 

আমি জানি একটা গৃহহীন 

ডাহুকের কথা, 

যতক্ষণ না সে দিগন্ত 

স্পর্শ করে, 

তুমি সমুদ্র বিশ্বাস করো, 

আমরা লবণাক্ত গল্প জমিয়ে রাখি, 

আমি দ্বিখন্ডিত সূর্যে বিশ্বাস করি, 

আমি শান্তির ছদ্মবেশ ধরে রাখি আজকাল।

তোমার হাতের স্নেহস্পর্শে 

কোন ছেলে বা মেয়ের স্বর  

শিরা ও ধমনীতে কম্পন তুলে 

গ্রামের উপর দিয়ে চলে যায়।


সমাধিস্তম্ভ 


যার শেষ নিঃশ্বাস 

তোমার বাদামি চোখে ঘুমোচ্ছে 

সেই শিশুর দুটো চোখের মাঝে 

তুমি নিশানা নির্ধারণ করো, 

যখন কোন শিশুকন্যার হৃদয় 

তোমার দুহাতের মধ্যে থাকে 

তার দুটো পা রক্তাক্ত 

তখন নিজের স্পন্দন শুনতে পাও? 

হে পাহাড়ি মানুষ 

তোমার ভাগ্য তোমার পায়ের নিচের 

পাহাড়ের গায়ে ভাঙন তৈরি করে, 

কোন রমণী দেখে 

তার স্তনবৃন্ত জ্বলছে, 

কোন মা ধুলো সরিয়ে 

ছেলের পোড়া চুল খুঁজে, 

তুমি বলো 

কার চোখের গভীরে, 

তোমার শেষ নিঃশ্বাস 

শান্তি খুঁজে নেবে?


পৃথিবী 


পৃথিবীর তার উষ্ণ বাহুডোরে 

আমাকে জড়িয়ে নেয়, 

সেই মায়ের মত ধরণী, 

যে বুঝতে পারে আমার 

দীর্ঘ পরিক্রমার যন্ত্রনা। 


আমার ভ্রমণ 

সেই প্রাজ্ঞ কাকের মতো 

যে দিনে হাজার বার 

চীনার গাছের মাথায় উঠে 

যুদ্ধজয়ের চিহ্ন রাখে, 

হয়তো জীবনও সেই কাকের মতো, 

প্রতিটি ভোর 

নিজের কালো ঠোঁট ডোবায় 

সূর্যের স্বর্গীয় আলোয়, 

হয়তো জীবন সেই কাক 

যে শয়তানের ডানায় ভর দিয়ে ওড়ে 


জীবনই হয়তো সেই শয়তান, 

যে সেই চতুর্থ খুনি মানুষকে 

জাগিয়ে তোলে, 

জীবন হয়তো সেই যন্ত্রণা পীড়িত পৃথিবী 

যে আমায় আমার দিকে বাড়িয়েছে 

তার রক্তাক্ত হাত, 

আর আমি ভাবি 

আমি কোনো বিজয়স্তম্ভে দাঁড়িয়ে 

অভিবাদন নিচ্ছি।







Comments

Popular posts from this blog

স ম্পা দ কে র জা না লা

অ নু বা দ ক বি তা য় ক বি স প্ত র্ষি রা য়