স ম্পা দ কে র জা না লা


রাজীব ঘাঁটী

দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান।পেশা:কেন্দ্রীয় সরকারী চাকরিজীবী।প্রথম প্রকাশিত গল্প গ্রন্থ :হৃদয়ের পরিহাস।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ১১ টি।স্বপ্ন, প্রেয়সী, স্বপ্নের দেশে বাস্তবের সাথে,জ্যোৎস্না ভেজা সকাল, খেয়া ঘাটেরপদাবলী,বন্দী সময়ের  ফরিয়াদ,  মাগার কথালিপি, রাজ উবাচ শতক, আবৃত্তির কথামালা, হৃদয় যাপন, বিবর্ণ পান্ডুলিপি,ছায়াপথের বুক চিরে সম্পাদিত গ্রন্থ /সংকলন ৬৮ টি।লেখালিখি:- কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমণ গদ্য, রম্যরচনা।সম্পাদক নব অধ্যায় - ২০০৪ থেকে ২০০৯শিল্প ও সাহিত্য - ২০১০ থেকে ২০২২ (মাসিক নিয়মিত )সাহিত্য আলপনা -২০১৪ থেকে ২০২২ ষান্মাসিক   বর্ধমান জেলা লিটল ম্যাগাজিন সংঘের সম্পাদক।ভারত -বাংলাদেশ মিলে ৩০০ র বেশি সম্বর্ধনা।

এ সংখ্যার জন্য মনোনীত সম্পাদক হলেন 'শিল্প ও সাহিত্য' এবং 'সাহিত্য আলপনা' পত্রিকার সম্পাদক রাজীব ঘাঁটী









লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকের শেষ কথা 'দায়বদ্ধতা'

২০০৪ সাল তখন আমি কবিতা সহবাসে এক দশক পূর্ণ করেছি । লিটিল ম্যাগাজিন কে জেনেছি অনেকটা, বোঝার চেষ্টা করে চলেছি।শুরু হল পথচলা নতুন করে, সম্পাদনার মধ্য দিয়ে। আমি তখন জামুড়িয়ায় (আসানসোল)থাকি। মফস্বল ছোট্ট শহর । সাহিত্যের লোক হাতে গোনা। একটি মাত্র ছোটদের পত্রিকা তাও অনিয়মিত। শুরু হল চারপাতার ফোল্ডার দিয়ে‌ ,জন্ম নিল নতুন এক লিটল ম্যাগাজিন "নব দিগন্ত",ষান্মাসিক।

প্রথম প্রকাশ মার্চ ২০০৪ এরপর অক্টোবর এ শারদীয়া।

চলতে চলতে নিবন্ধন এর আবেদন , নতুন নাম পেলাম "নব অধ্যায়"। একবার ভাবলাম লেখা পাবো কি ভাবে ? তখন মেল বা হোয়াটস আপ তো ছিলই না । ফোনও সহজ ছিল না। পোষ্ট কার্ড অবলম্বন করে যোগাযোগ। এগিয়ে চললো আমাদের কর্মকাণ্ড, আমার সম্পাদনা। আয়োজন করতাম বাৎসরিক কবিতা উৎসবেরও।এভাবেই সাহিত্য অঙ্গনে এক এক করে জানালা খুলতে লাগলো এলো মুক্ত বাতাস । প্রবীণ লেখক সম্পাদকরা অভিভাবকের মতো করে সাহায্যের হাত বাড়ালেন । আমি তখন একটি হাইস্কুলের শিক্ষক, এলাকায় সমাজকর্মী হিসাবে বিশেষ পরিচিত তাই আর্থিক অনুকুলতা আমাকে ভীষণভাবে সাহায্য করেছে সম্পাদনার কাজকে ধারাবাহিক রাখতে। আমি বরাবরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বাসী,কেননা অভ্যাস মানুষকে সচল ও সক্রিয় রাখে। এই সম্পাদনা করতে গিয়ে নিজের লেখালেখিতে ভাটা পড়েছে, কিন্তু বহু মানুষের লেখা একত্রিত প্রকাশের পর সবাইকে সাথে নিয়ে চলার যে আনন্দ তা ভুলিয়ে দিয়েছে সব । এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করিনি কোনদিন ই। এরপর বহু লিটিল ম্যাগাজিন এ লেখালেখি এবং পাঠ অভ্যাস থেকে শিখেছি সবসময় আজও সে অধ্যয়ন চলছেই । বহু লেখক,কবি এসেছেন একটা ভালো পরিমণ্ডল এ যুক্ত হয়েছেন এও এক বড় পাওয়া।

এরপর পত্রিকাটি নিয়ে শাসক রাজনৈতিক দলের মাতব্বরি শুরু হয় ,যারা লিটিল ম্যাগাজিন থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করা মানুষ ।জঘন্য চক্রান্ত করে পত্রিকাটি হত্যা করেন। এই সময় হঠাৎ করেই আমি Steel Authority of India -র অধীন Durgapur Steel Plant এ সর্বভারতীয় পরীক্ষা পাশ করে চাকরিতে যোগ দিই। একবছরের মধ্যেই দপ্তরের অনুমতি নিয়ে মাসিক পত্রিকা "শিল্প ও সাহিত্য" প্রকাশ শুরু করি । নভেম্বরে ২০১০ সালে। এরপর গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চললো "শিল্প ও সাহিত্য"। বর্তমানে বাংলা মাস ধরে পত্রিকাটি

প্রতিমাসে (প্রথম থেকেই) প্রকাশিত হয়ে চলেছে ১১ বছর ধরে।এই পত্রিকা বর্ষবরণ,প্রাক্ দোল, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, আন্তর্জাতিক নারী দিবস, বনভোজন, শুক্রবার এর সাহিত্য আড্ডা (প্রতি সপ্তাহে),বিজয়া সম্মেলনী,বসন্ত উৎসব আয়োজন করে থাকে। নির্দিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছয়টি দেশের বাংলাভাষার কবি, সাহিত্যিক লিখছেন পত্রিকাটিতে। করোনাকালে ৩০০ পর্বের ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠান করা হয়েছে। রয়েছে  facebook page ও YouTube channel ।চারটি দেশের কবি অংশগ্রহণ করেছেন ফেসবুক লাইভে। নিত্য নতুন ভাবনা নিয়ে পথ চলে "শিল্প ও সাহিত্য" একটি পরিপূর্ণ লিটিল ম্যাগাজিন।

আমি মনে করি লিটিল ম্যাগাজিন হল সাহিত্যের আঁতুড়ঘর,আর আঁতুড়ঘর এ জন্ম নেওয়া সব সন্তান যেমন বিরাট গুণের অধিকারী হয় না তেমনি সকল লিটিল ম্যাগাজিনের লেখক বিখ্যাত হয় না। তাই উচিত সবাইকেই সুযোগ দেওয়া তাঁর মধ্যে থেকেই হয়তো আগামীর বিখ্যাত লেখককে আমরা পাবো,এই বিশ্বাসেই আমি আমার স্বতন্ত্র ভাবনা নিয়ে লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করি। 

লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখা যায়, সঠিক মানুষের সংস্পর্শে এলে কর্মে পরিপূর্ণতা আসে। আমি নতুন লেখকদের সুযোগ দেওয়াতে বিশ্বাস করি,সুনিপুণ ভাবে সেই কাজ করে চলেছি। এক্ষেত্রে বহু সমালোচনা শুনতে হয়,লেখার মান নিয়ে অনেক কথা শুনতে হয় তবুও‌ আমি নিজ স্থানে অনড় থেকে আজ ও নতুন লেখকদের জন্য অবারিত দ্বার খুলে বসে আছি।

কারন আমার সম্পাদিত পত্রিকা লিটল ম্যাগাজিন,আর অবশ্যই তা হল লেখকের আঁতুড়ঘর। সুতরাং কথা আর কাজ এক হতেই হবে‌...

এরপর ২০১৪ সাল থেকে একটু অন্যরকম ভাবনা নিয়ে শুরু করলাম "সাহিত্য আলপনা" নামক পত্রিকা,

আরেকটি লিটিল ম্যাগাজিন। প্রথমে পত্রিকাটি ত্রৈমাসিক হিসাবে প্রকাশিত হতো। নববর্ষ, শারদীয়া ছাড়া দুটি বিশেষ সংখ্যা। পত্রিকা প্রকাশ করতে গিয়ে নতুন ভাবনগুলিকে স্বীকৃতি দিয়ে এগিয়ে গেছি,এক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রয়োগ যেমন সাদরে গ্রহণ করা হয়েছে আবার অনেক ক্ষেত্রে কিছু ভাবনা প্রশ্রয় পায়নি।নানা টানাপোড়েন কখনো হতাশ করলেও কখনো এগিয়ে  দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করতে শিখিয়েছে। ত্রৈমাসিক পত্রিকা "সাহিত্য আলপনা" মূলতঃ ছিল অন্যরকম ভাবনা,এদিকে মাসিক শিল্প ও সাহিত্য পত্রিকা নিয়মিত চলছে । ত্রৈমাসিক পত্রিকা একটু চাপের হয়ে উঠলো‌,সবসময়তো আর্থিক অনুকুলতা ছিলোই তা নয় অনেক সময় পকেটের পয়সা খরচ করেও আনন্দের সঙ্গেই পত্রিকা প্রকাশ করেছি।

যেভাবেই হোক না কেন ধারাবাহিক পত্রিকা প্রকাশ ছিল মূল উদ্দেশ্য,আজও ধারাবাহিক ভাবে নিয়মিত চেষ্টা করে চলেছি। একজন লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদককে অনেকটা দায়বদ্ধ হতে হয়,অজুহাত চলে না। আমি যখন সম্পাদনা করতে শুরু করি তখন কঠিন সময় এত সহজে লেখা পাওয়া যেত না । কবিদের কাছে এত সহজে পৌঁছানো যেত না , তবুও উদ্দেশ্য সঠিক রেখে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ‌ করে গেছি । আজকের সময়ে সকালে পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেল, হোয়াটস অ্যাপ এ লেখা চলে আসে। দায়বদ্ধ হওয়া এখন অনেকটা সহজ যদি সবক্ষেত্রে এর সমানতা লক্ষ্য করি না।

সৌজন্য সংখ্যা দেওয়ার ব্যাপারে ও আমরা অপারগ নই,দায়িত্বের সঙ্গে লেখক কপি পৌঁছে দিতে সচেষ্ট থাকি। অর্থাৎ সমস্ত শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করছি লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদকের দায়িত্ব।

এরপর ২০২১ সাল , দীর্ঘদিন ধরে শিশু সাহিত্যিকদের দাবী মেনে শুরু করলাম আরেকটি পত্রিকা , লিটিল ম্যাগাজিন ।সম্পাদনা শুরু করলাম  শিশু কিশোরদের জন্য। নাম "শিশু দর্পণ "। প্রতিটি লেখার সাথে Illustration ,শুরু হল পথচলা ২০২১ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি। এটিও ষাণ্মাসিক। দুটি সংখ্যা ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এভাবেই সম্পাদক জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি নিজ দায়বদ্ধতায়।বাকিটুকু সময়ের প্রেক্ষাপটে চলার অঙ্গীকার নিয়ে আমি সম্পাদক জীবনে পথ চলবো।

ভালো থাকুন লেখক,পাঠক আর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

স্বসম্পাদিত লিটিল ম্যাগাজিন গুলি আমার সন্তানসম। তাদেরই যথার্থ ভাবে লালনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সব শেষে বলি-

  " শত বছরের সাধনা, এখন হাজারের পথে চলুক

    লিটিল ম্যাগাজিন গর্ব করে সাহিত্যর কথা বলুক ।"

       



Comments

Popular posts from this blog

অ নু বা দ ক বি তা য় ক বি স প্ত র্ষি রা য়