ক বি ম তি ন রা য় হা ন
মতিন রায়হান
জন্ম : ২২শে জুলাই ১৯৬৭ কোরবানপুর, মুরাদনগর, কুমিল্লা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু। সাংবাদিকতায় পার করেছেন দুই দশকেরও বেশি সময়। কবিতাই তার প্রধান অন্বিষ্ট বিষয়। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিতাস পুরাণ (১৯৯৬), পাতাকাহিনীর খোঁজে (২০০২), আগলে রাখি নদীর সম্ভ্রম (২০১২), নদীমগ্ন বাউলের গান (২০১৯), ও প্রেম মায়াগন্ধা। গদ্যেও তিনি স্বতঃস্ফূর্ত। জানা-অজানা ১০০ ফুল নিয়ে কবিতা ও গদ্যভাষ্যের এক ব্যতিক্রমী গ্রন্থ পুষ্পগাথা পুষ্পকথা (২০১৮)। আমাদের ছায়াতরুগণ (২০১৮) চল্লিশ কৃতী বাঙালি ব্যক্তিত্বের অন্তরঙ্গ জীবনালেখ্য। ২০১১ সালে যোগ দেন বাংলা একাডেমিতে। বাংলা একাডেমি বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এ সংকলক এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান-এর সম্পাদনা সহযোগী। বর্তমানে বাংলা একাডেমির গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগের অভিধান ও বিশ্বকোষ উপবিভাগে কর্মরত।
দুটি কবিতায় কবি মতিন রায়হান
উত্তর পঞ্চাশে রচিত কতিপয় চিত্রকল্প
এই রোদ্দুরে কেন দিই
জমাটি মেঘের উদ্ধৃতি?
দৃশ্যের আড়ালে দৃশ্য
স্তনবৃন্তে ওষ্ঠরেখা
জ্বল্যমান
অদেখা রূপানল
নাভিমূলে গভীর ঘূর্ণন
বিদ্যুল্লতা
অগ্নিময়ী, গ্রাস করো
পূর্ণপ্রেমে
স্বাদু জিহ্বায়
গতজন্মের পাপ-পুণ্য
ভ্রান্ত বিভেদরেখা
মুছে ফেলি
ডাস্টারে
আমি তো মাস্টারমশাই
পাঠশালার, পৃথিবীর...
আকাশসমান হৃদয়ে
মুহূর্তও মহাকাল
উপমা-চিত্রকল্পে
উদ্দাম, বুনো
হে যৌবন, তোমাকে প্রণাম!
এসো, প্রিয় ইমনকল্যাণে
আলোর জানালা খুলে দেখি আমি প্রভাতের পাখি
কূজনে কূজনে ফোটে ভোরবেলা, তুমি আলো
মুক্তির, যুক্তির; খুব ভালো বাসি তোমাকে;
দুপুর রোদে যদি হেসে ওঠে অনঙ্গ-কুহক আমি অঙ্গময় সঙ্গ খুঁজে নিই। ও আমার ব্যাকুলা
বিহঙ্গ : এসো, দূর আকাশের বাটে ডানা মেলি
যৌথ-যৌবনের কাসিদা কে শোনাবে সন্ধ্যায়
ইমনকল্যাণে? তুমি ছাড়া! তুমিময় এ জীবন
প্রীতিপুণ্যে কী দারুণ সমাসীন! তোমার দুচোখ
যেন ঘোরলাগা পদ্মদিঘি, তাই আমি প্রেম হয়ে
ভাসি! ও জল, নদীর নামে ঢেউ তোলো আজ;
তরঙ্গ-হৃদয় কেন মরে যেতে চায়! এই মৃত্যু
স্বেচ্ছামৃত্যু? নাকি মৃত্যুর শরাব পিয়ে জীবনের
অমরত্ব লাভ? মনসুর হাল্লাজ জানে মৃত্যু মানে জীবনের
শুভ উদ্বোধন! আমিও যথারীতি
উদ্বোধনী গাই; তুমিও মিলাও গলা পরান-জোনাকি
আলোর জানালা খুলে দেখি আমি প্রভাতের পাখি।

Comments
Post a Comment