ক বি ঝি ল ম ত্রি বে দী


ঝিলম ত্রিবেদী


জন্ম:- ১৯৮৪ সালের পৌষমাসে।'দর্শন' নিয়ে পড়াশোনা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখায় প্রবেশ বেশ পরে,২৭/২৮ বছর বয়সে।২০১৫ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ "নিরুদ্দেশ সম্পর্কিত ঘোষণা"-র প্রকাশ। ২০২০-র বইমেলায় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বৃষ্টি পড়া বাড়ি" প্রকাশিত হয় প্রতিভাস প্রকাশনা থেকে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখে চলেছেন। কবিতার পাশাপাশি গদ্য ও নাটক লেখেন।'দেশ' অনলাইন পত্রিকায় "নির্বাচিত কবি"-র সম্মান প্রাপ্তি। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে আমন্ত্রিত কবি হিসেবে, ৪র্থ বাংলা কবিতা উৎসবে অংশগ্রহণ।


দুটি কবিতায়

কবি ঝিলম ত্রিবেদী











আঁধারের মেয়ে


কার মঙ্গলকামনায় জ্বলো তুমি মাটির প্রদীপ


শিখা তিরতির করে, অঞ্জলি নাও সন্ধের

আমি একা ছাদে উঠি, বসি, তোমার তমোঘ্ন রেখা দেখি


দেখি-


একটি মেয়ে আড়বুঝো

শরীরে ঈশ্বর তার দিয়েছে কালোর ধারাপাত

অঝোর গহনা

আর

লেলিহান শাড়ির অন্তরে

আঁধারের মতো তার হৃদয়ে নিভৃতি বাস করে


চোখ আঁকে তৃষা দিয়ে

সংসারের ঠোঁট আঁকে ফাঁকি

সবাইকে ঠকিয়ে মেয়ে ফিরে আসে বাপেরবাড়িতে

দুপুরে নূপুর খুলে শুয়ে থাকে চৌকির কোলে

শুয়ে শুয়ে পাখি হ'য়ে যায় এলোচুলে


মায়ের চিন্তা হয়

ঠাকুরকে বাবা জল দেয়

মেয়ে যে অবুঝ মেয়ে, রাত্রি দিয়ে শরীর গড়েছে!


বাবা ধীরে চুপটি ক'রে ব'সে ব'সে ঠাকুরের কাছে

কী চাইবে বোঝে না তো!


"চাওয়া কাকে বলে পৃথিবীতে?"-


-এই কথাটির গায়ে শীতের চাদর জড়িয়ে

দীর্ঘশ্বাস ঢেলে মাটির প্রদীপে প্রদীপে

দুশ্চিন্তার এক সলতে জ্বালে দেশলাই দিয়ে

তারপর বুক পোড়ে, আগুনে হৃদয় পোড়ে বাবার...


ক্লান্ত ক্লান্ত পায়ে, খড়ি ওঠা রুক্ষ নয়নে

প্রশ্নের জলে রেখে একটি দু'টি নিবিড় উত্তর

মেয়ে সালোয়ার পরে, কামিজ়ে ওড়না চড়িয়ে

ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বলে-


"ফিরে যাচ্ছি, দরজা দিয়ে দিও!"---


কোথায় ফিরবে সে-


"ছাদে ফুল শুকিয়ে যাবে মাগো

বিষাদ আঁকলে তুই বুক ফেটে যায়, রক্ত ঝরে

শরীর যুগিয়ে যদি না চলিস এই সংসারে

ক্লান্ত ক্লান্ত হবি

তীব্র ক্লান্তির পৃথিবীতে!


কার কোলে রাখবি তুই সুকোমল নরম মুখটি

রুটি ছিঁড়ে ছিটিয়ে দেবে গহনা শাড়ির এই বাজার

একা একা মরে যাবি

আমরা দু'টো বুড়োবুড়ি মিলে

মাটির প্রদীপে তবু আগুন জ্বালাব কামনায়?"


শিখা হাহাকার করে, অঞ্জলি ভেঙে ভেঙে যায়

আমি শুয়ে থাকি সেই মেয়েটির শবযাত্রায়...


ভ্রমণ


চারিদিক

ধু ধু

তোমার চোখের মতো শুধু

ভাঙা আঙুলের মতো

ভেঙে যাওয়া সন্তানের মতো

চারিদিক

শুধু


নদীর জলের কাছে সংসার দাঁড়ালে হঠাৎ

প্রবাহ ওঠে না কোনও

স্থির এক শান্ত আঘাত-

দু'টি মুখ

জল দিয়ে এঁকে রাখা স্তনভার-

রোদে

পুড়ে যায় সংসার!


চাঁদ লেগে থাকা দোকানিরা

বহতা কড়াই

শিশিরের বন থেকে ফিরে আসে লাজুক ছেলেটি

গান

গায়

চঞ্চল ক'রে তোলে হাত-

মেয়েটি আকাশি রং, মেয়েটিও পুজো নিতে চায়-


পাটনী

একলা

দেখে


বিড়ি খায়, ধোঁয়া ওড়ে একা...


নিভন্ত ছেলে মেয়ে

সংসার ছেড়ে এসে নৌকোয় সংসার করে...



Comments

  1. খুব খুব ভালো লাগলো😇

    ReplyDelete
  2. অসাধারণ দুটো কবিতা পড়লাম

    ReplyDelete
    Replies
    1. অনেক ধন্যবাদ আপনাকে

      Delete
  3. খুব ভালো লিখেছো তুমি।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

স ম্পা দ কে র জা না লা

অ নু বা দ ক বি তা য় ক বি স প্ত র্ষি রা য়