ক বি প্র দী প ম ন্ড ল



প্রদীপ মন্ডল

কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প রচনার পাশাপাশি লোকসংস্কৃতি-লোককৃষ্টি নিয়ে কাজ ও গবেষণা করতে ভালোবাসেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কোলকাতা থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং শিক্ষক-শিক্ষণ বিষয়ে বিএড ডিগ্রী লাভ। বিশ্ব সেবাসংঘ আশ্রম নামক সমাজ সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও কর্মী। বর্তমানে শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত। প্রকাশিত গ্রন্থ— সবুজ বালিকা (কবিতা), গন্ধর্বকন্যা (কবিতা), মেঘ বালিকার সঙ্গে (কবিতা), বাংলার হারিয়ে যাওয়া গান (১-২ খণ্ড) [লোকগান]। বহু পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখালিখি। সম্পাদিত পত্রিকা—আত্মশক্তি (ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্র)।

দুটি কবিতায়

কবি প্রদীপ মণ্ডল











স্মৃতিপোড়া রঙ..


থোড়ে থোড়ে প্রেম নিয়ে উঠে এসেছে আমনের ক্ষেত, আগত ভবিষ্যৎ--

দোরের ওপারে নীল চোখ, নিঃসঙ্গ রক্তেরা লুটোচ্ছে কৃষ্ণচূড়া ফুলে

শিকড়ে শিকড়ে বসন্তের রেওয়াজ! গায়ে হলুদ মধুমতীর জোয়ারে।

অভ্রান্ত উষ্ণতার খোঁজে ভেতরে ঢুকছে আগন্তুক, ফিরে যাচ্ছে নিয়ে সমগ্র

                                                বাঁধাকপির সবুজ।


অলিন্দে শৌভিক নির্জনতা জমিয়ে স্মৃতিপোড়া রঙে

                  আঁকতে বসলাম জোনাকি ও প্রেম ...

সব ব্যক্তিগত রঙ ঢেলে প্রণতি জানালাম পটের বুকে ও পায়ে

ক্রমশ আপস্রিয়মাণ আলোর ছাপ কেড়ে নিল তুলি ---


অর্থহীনভাবে পান্‌সি ভেসে যেতে লাগলো, ভালোবাসা

দিবসের সকাল বৃন্তচ্যুত কুসুম নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো

ফোন আর এলোনা---

যার কিছু একটা বলার কথা ছিল।


সুদীর্ঘতর সময়ের অপেক্ষার শেষে মনের ভিতর মনের আলো জ্বেলে

বৈরাগ্যের বাথানে নদী হয়ে যাই, অন্ধকারে আলোর নৃত্য দেখি

সমস্ত অপূর্ণতা ভুলে চোখ চলে যায় জোনাকির খোঁজে

অথচ সংকোচ কাটানোর জন্যে এক কমবয়েসী প্রেমিক

এলোমেলো কথাদিয়ে নিজেকে ভাঙে, অনভ্যস্ত হাত থেকে পড়ে যায়

                                                     লালগোলাপ।


বৈধ্য ঘোষণার শরীরে বিচলিত কলম প্রশ্ন রাখে

অর্ধেক পথ পেরিয়ে এসে দেখি উত্তরহীন বেদনার ঘরে জ্বলেনি

                                                     আলো

চৌকাঠে মালতীলতা, ভয়ের কাঁটাতার পেরিয়ে ঢোকেনি

                                             জোনাকি।


সমস্ত বিষাদের উপরে তবু লিখে রাখি ভালোবাসি --



নিউ স্টার হোটেল ও মধ্যরাত


নিউ স্টার হোটেলের টেবিল, সপ্তাহে একদিন তার খেতে দেওয়া চাই

বিনয় মজুমদার সরণীর পাশে নীল জামা পরে লাজুক প্রেমিক

খাই-খাই সোনারগার দেশে। সমবয়েসী আঙুলে আঙুল রেখে

ভ্রুণবতী মাটি নম্রতা মেখে কুড়িয়ে নেয় প্লেট জুড়ে

বার্গারের স্বাদ


টিশাট, এলোচুল সুগন্ধি রুমাল

গ্লাসে গ্লাসে প্রগতিশীল জল

রক্ত আর অন্ধকারের খিদে মিটিয়ে

স্যাঁতসেঁতে আলো আঁচড়ে দেয় শরীরী আড়াল

আগুনের সীমানা পেরিয়ে চামচের গা বেয়ে নামে বিষ

অদূরে ভয় কেবল আলোটুকু বাঘ হয়ে উঠতে পারেনা


ধরাশায়ী ভালোবাসা রাধা রঙ মেখে চুপিসারে হারিয়ে যায় মধ্যরাতে।

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

স ম্পা দ কে র জা না লা

অ নু বা দ ক বি তা য় ক বি স প্ত র্ষি রা য়