ক বি অ ব শে ষ দা স


অবশেষ দাস

জন্ম: দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি তুলনামূলক ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা। দুটোতেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। এছাড়া মাসকমিউনিকেশন নিয়েও পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিদ্যানগর কলেজের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক। প্রথম লেখা প্রকাশ 'দীপশিখা' পত্রিকার শারদ সংখ্যায়। তাঁর কয়েকটি কবিতার বই :'মাটির ঘরের গল্প' (২০০৪),কিশোরবেলা সোনার খাঁচায়' (২০১৪ ),হাওয়ার নূপুর' (২০২০),' হ্যারিকেনের আলোটাও জ্যোৎস্না'( ২০২১),বুকের ভেতর ময়ূরাক্ষী' (২০২১), 'কিশোর কবিতাসংগ্রহ ‌' (২০২১)  সহ অজস্র সংকলন ও সম্পাদিত গ্রন্থ।বেশকিছুদিন সম্পাদনা করেছেন ছোটদের 'একতারা' সাহিত্য পত্রিকা। এছাড়া আমন্ত্রণমূলক সম্পাদনা করেছেন বহু পত্র-পত্রিকায়। তিনি গড়ে তুলেছেন শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দুটি অন্যধারার প্রতিষ্ঠান 'বাংলার মুখ' ও মেনকাবালা দেবী স্মৃতি সংস্কৃতি আকাদেমি'। তাঁর গবেষণার বিষয় 'সুন্দরবনের জনজীবন ও বাংলা কথাসাহিত্য'। পাশাপাশি দলিত সমাজ ও সাহিত্যের প্রতি গভীরভাবে মনোযোগী। ফুলের সৌরভ নয়, জীবনের সৌরভ খুঁজে যাওয়া কবির সারা জীবনের সাধনা। সবুজ গাছপালাকে তিনি সন্তানের মতো ভালবাসেন। সুন্দরবন তাঁর কাছে আরাধ্য দেবী। সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অজস্র পুরস্কার ও সম্মান :

সুধারানী রায় স্মৃতি পুরস্কার (২০০৪), বাসুদেব সরকার স্মৃতি পদক (২০০৬), রোটারি লিটারেচার অ্যাওয়ার্ড (২০০৬),১০০ ডায়মণ্ড গণসংবর্ধনা (২০০৮),পাঞ্চজন্য সাহিত্য পুরস্কার (২০১০),শতবার্ষিকী সাহিত্য সম্মাননা (২০১১), ডঃ রাধাকৃষ্ণন সম্মাননা (২০১৫),তেপান্তর পুরস্কার ২০১৮,ডি.পি.এস.সি. সাহিত্য সম্মাননা (২০১৮), আত্মজন সম্মাননা (২০১৯)বিবেকানন্দ পুরস্কার (২০১৯),দীপালিকা সম্মাননা (২০১৯)সংহতি সম্মাননা (২০২০),সুকুমার রায় পুরস্কার ( ২০২০)

শিক্ষাশ্রী পুরস্কার (২০২১)।

দুটি কবিতায়

কবি অবশেষ দাস






অগোছালো প্রেমের কবিতা

কাজল ধুয়ে সন্ধ্যা এলো, রাত্রি এলো হেঁটে

খবর হলো চাঁদ উঠেছে, মুম্বাই ট্রেন লেটে।


কাজল চোখে জল আসেনি, ছলের বাড়াবাড়ি

নদীর কাছে দাঁড়িয়ে আছে, পাইন রঙের শাড়ি।


শাড়ির ভাঁজে মান-অভিমান, প্রেমের সুতোর কল্কে

ঠান্ডা হাওয়ার দাপাদাপি। আগুন ওঠে চলকে।


শরীর জুড়ে ধামসা-মাদল, কনকচাঁপার তোড়া

তোমার জন্যে অপেক্ষাতে লালন আগাগোড়া।


স্টেশন ছেড়ে রাত চলে যায়,হাত বাড়িয়ে আমি

তোমার জন্যে আর একটা দিন ধূসর কোথাও থামি।


মুম্বাই ট্রেন চলছে লেটে। রাজপথে ভিড় জমে

তোমার জন্যে সবকিছু আজ চলছে ব্যতিক্রমে।


চায়ের ভাঁড়ে চুমুক ওঠে। শামুক গতি ট্রেনে

উপন্যাসের শেষের পাতা সবাই গেছে জেনে।


শীতের হাওয়া আলপনা দেয়। বুকের নরম পটে

এমন কত কিছু আহা জীবন থাকলে ঘটে।


টুকটুকে ঠোঁট লিপস্টিকে কেমন যেন পরী

রাধার অভিসারে আজও কলসে জল ভরি।


তোমার চোখের কাজল বলে, লালন তুমি বোকা

কার জন্যে সারাজীবন একাগ্রতায় লেখা!


লিখতে হবে কেউ বলেনি, জীবন তো চায় লিখি

ভালবাসার ঘরবাড়ি আর গান বাঁধতে শিখি।


হঠাৎ দেখি ট্রেন এসেছে, গুলাম আলি বাজে

লালন পুরো ভ্যাবাচ্যাকা মহব্বতের লাজে।


ঘরকন্না ও শিমুল ফুলের কবিতা


সংসার, ততটা ভালবাসতে পারলে না

যতটা ভালবাসলে সব ভুলে যেতে পারতাম।

যতটা বেঁধে রাখলে উড়ে যাওয়ার ডানা খসাতাম।

এখন শুধু কেজো লোকের মতো মুখ গুঁজে থেকে যাওয়া।


শালিকের প্রফুল্ল ছায়া দেখলেও ভয় হয়, ওরা খুব সংসারী

হয়তো ততটাই ভালবাসা আছে, ওদের


কবরে পুঁতে দেওয়া প্রেম কুয়াশার রাত হয়ে কাঁদে, ফিরে আয়

অনন্ত চাঁদ হয়ে ফিরে আয়...

ডাক বাংলোর ঘড়ি হয়ে ফিরে আয়

ফিরে আয় চাঁদ বণিকের দেশে, অনিঃশেষ শূন্যতা ধরে


আমাকে সে বিছিয়েছে

ধান বোনা কার্তিকের ছক কাটা মাঠের মতো,

সংসার শতদলে থৈ থৈ করে।


ভাবছি, একদিন উড়ে যাব। অ-নে-নে-নে-ক দূরে

যেখানে সংসার আমাকে খুঁজে পাবে না...


Comments

Popular posts from this blog

স ম্পা দ কে র জা না লা

অ নু বা দ ক বি তা য় ক বি স প্ত র্ষি রা য়