ক বি কা ম রু ল বা হা র আ রি ফ


কামরুল বাহার আরিফ

জন্ম:- নভেম্বর ৭, ১৯৬৫, খুলনা। বেড়ে ওঠা, শিক্ষা জীবন অতঃপর বসবাস রাজশাহীতে। পিতা চিশতী এস. এম. এস. দাহার, মাতা চিশতী জাহান আরা দাহার। হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর। পেশা : উপ-পরিচালক (বাজেট), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রকাশিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ : সূর্যের ম্যাপ ছুঁয়ে (২০০৮),গোধূলির পাণ্ডু নীলিমায় (২০১২),কে ডাকে আগুনপথে (২০১৩),বর্ষা তো জলের বর্ণ (২০১৫), রাঙারোদ ছুঁয়েছে পৌষের শরীর (২০১৫), দ্বিতীয় সংস্করণ (২০১৬, বইমেলা), প্রেমবৃত্তে জল ও নারী (২০১৭),কে ওড়ে নদীপারের নায়ে (২০১৭), পাখিটি আর জলে নামেনি (২০১৯), পাতার ওপর লেখা আছে আমার কিছু (২০১৯), ও সর্বনাশ এসো (২০২০),নদীতে ছুঁয়ে দেয় ঠোঁট (২০২১),তুমি জেগে রবে, জেগে রহো-- (২০২১),ইজেলে উঠুক চড়ে ইনানী মেয়ে (২০২১ প্রকাশের পথে)। সম্পাদনা : মৃদঙ্গ
সম্মাননা:কান্তকবি মেলা, রাজশাহী (২০১৬),উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ, চট্টগ্রাম (২০২০)।

দুটি কবিতায়
কবি কামরুল বাহার আরিফ

শরণার্থী


আমার কোনো নিজস্ব রাত নেই

তোমার রাতেই আমি এক শরণার্থী

যত্ন করে আশ্রয় দিয়েছো তুমি

আশ্রয়ের প্রশ্রয়ে 

রাতের শেয়াল ঘোরে এদিক সেদিক

শেয়ালও শরণার্থী জেনে লোভীচোখে তাকায়

তখন শরণার্থীভয়ে তোমার রাতে মুখ গুঁজে থাকি

তবু অন্ধকারে জ্বলতে থাকে অগণিত চোখ

তোমার রাত তখন সাপের হিম আঁচলে

আমাকে পেঁচিয়ে রাখে

আমার কোনো নিজস্ব আমি নেই

তোমার তুমিতেই আমি শরণার্থী এক


তুমি রাত ছিঁড়ে একটা সূর্যসকাল 

শরণার্থীকে উপহার দিলে

তুমিই আমার একটা পতাকা হবে

আর তোমার বুকটা হবে মানচিত্র।


ঘোরলাগা


একটা রাজহাঁস জলকেলি শেষে

ডানা ঝাপটিয়ে রঙধনু এঁকে দিলে

তার প্রতি বেড়ে যায় হৃদয়ের ঋণ।

আর সবুজ ঘাসের গালিচার পথে

রাজসিক হেঁটে যাওয়ার আভিজাত্য

আমাকে মুগ্ধ ক'রে রাজা হওয়ার সাধ জাগিয়ে দেয়।

রঙহীন প্রজামনে রাজহাঁসের এই যে জীবন

তার পালকের ভাঁজের ওম নিয়ে

সুখরাজ্যের ঠিকানা খুঁজি...

দেখি, জল থেকে উঠে অনুগত পথে

রানীবেশে অনুসরণ করছে রাজহংসী এক।


প্রজামন তো বরাবরই এক মিশ্র স্বাপ্নিক চরিত্রের হয়

শোষিত হতে হতে নিঃস্ব হয়েও একবার না একবার

সে রাজা হতে চায়। তখন রানীরা রঙধনুর রঙে

তাকে ঘিরে থাকে শতছিন্ন কাঁথার নকসীর গভীরে।


Comments

Popular posts from this blog

ক বি মৌ লী না থ গো স্বা মী