ক বি কা ম রু ল বা হা র আ রি ফ
কামরুল বাহার আরিফ
শরণার্থী
আমার কোনো নিজস্ব রাত নেই
তোমার রাতেই আমি এক শরণার্থী
যত্ন করে আশ্রয় দিয়েছো তুমি
আশ্রয়ের প্রশ্রয়ে
রাতের শেয়াল ঘোরে এদিক সেদিক
শেয়ালও শরণার্থী জেনে লোভীচোখে তাকায়
তখন শরণার্থীভয়ে তোমার রাতে মুখ গুঁজে থাকি
তবু অন্ধকারে জ্বলতে থাকে অগণিত চোখ
তোমার রাত তখন সাপের হিম আঁচলে
আমাকে পেঁচিয়ে রাখে
আমার কোনো নিজস্ব আমি নেই
তোমার তুমিতেই আমি শরণার্থী এক
তুমি রাত ছিঁড়ে একটা সূর্যসকাল
শরণার্থীকে উপহার দিলে
তুমিই আমার একটা পতাকা হবে
আর তোমার বুকটা হবে মানচিত্র।
ঘোরলাগা
একটা রাজহাঁস জলকেলি শেষে
ডানা ঝাপটিয়ে রঙধনু এঁকে দিলে
তার প্রতি বেড়ে যায় হৃদয়ের ঋণ।
আর সবুজ ঘাসের গালিচার পথে
রাজসিক হেঁটে যাওয়ার আভিজাত্য
আমাকে মুগ্ধ ক'রে রাজা হওয়ার সাধ জাগিয়ে দেয়।
রঙহীন প্রজামনে রাজহাঁসের এই যে জীবন
তার পালকের ভাঁজের ওম নিয়ে
সুখরাজ্যের ঠিকানা খুঁজি...
দেখি, জল থেকে উঠে অনুগত পথে
রানীবেশে অনুসরণ করছে রাজহংসী এক।
প্রজামন তো বরাবরই এক মিশ্র স্বাপ্নিক চরিত্রের হয়
শোষিত হতে হতে নিঃস্ব হয়েও একবার না একবার
সে রাজা হতে চায়। তখন রানীরা রঙধনুর রঙে
তাকে ঘিরে থাকে শতছিন্ন কাঁথার নকসীর গভীরে।


Comments
Post a Comment